নাজাতের উপায় – পাঠ : ০৩
প্রিয় পাঠক আমাদের এই কোর্সের তৃতীয় মডিউলে আপনাকে স্বাগতম!
এখানে হজরত লূক এবং হজরত ইউহোন্নার কিতাব হতে কয়েকটি আয়াত দেয়া হলো। আপনি মনোযোগের সাথে আয়াতগুলো পাঠ করুন। কারণ এই সকল আয়াত আপনাকে এই পাঠ বুঝতে সাহায্য করবে।
প্রথমেই আপনাদের একটি সুখবর দিচ্ছি। যে ইঞ্জিল শরিফের মথি ১:১ আয়াত হলো: ঈসা মসীহ্ দাউদের বংশের এবং দাউদ ইব্রাহিমের বংশের লোক। ঈসা মসীহের বংশ তালিকা এই: এটাই হলো ইঞ্জিল শরিফের প্রথম আয়াত। ইঞ্জিল শরিফের শুরুতেই এই সুখবর দেয়া হয়েছে যে, মসীহ্ দুনিয়ায় এসেছেন। আল্লাহ্ যাঁকে দুনিয়ায় পাঠানোর ওয়াদা করেছিলেন ইনি সেই মসীহ্।
কুরআনেও বলা হয়েছে, মসীহের জন্ম একটি সুখবর। কুরআনের তৃতীয় সুরা আলে ইমরানের ৪৫ আয়াতে বলা হয়েছে যে, “স্মরণ কর, যখন ফিরিশতাগণ বলিল, “হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কালেমার সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মসীহ্ মারইয়াম-তনয় ‘ঈসা, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে।”
ঈসা মসীহের সাহাবি তাঁর শিক্ষা এবং তাঁর জীবনের কতগুলো মোজেজা সম্পর্কে লিখে গেছেন, ২ পিতর ১:২০-২১ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, এই সাহাবি মসীহের বিষয়ে লিখতে গিয়ে সবসময় পাকরুহের সাহায্য পেয়েছেন।
আল্লাহ্র কালাম
ইঞ্জিল শরিফ, ইউহোন্না ১:১-৫ প্রথমেই কালাম ছিলেন, কালাম আল্লাহ্র সংগে ছিলেন এবং কালাম নিজেই আল্লাহ্ ছিলেন। আর প্রথমেই তিনি আল্লাহ্র সংগে ছিলেন। সব কিছুই সেই কালামের দ্বারা সৃষ্ট হয়েছিল, আর যা কিছু সৃষ্ট হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে কোন কিছুই তাঁকে ছাড়া সৃষ্ট হয় নি। তাঁর মধ্যে জীবন ছিল এবং সেই জীবনই ছিল মানুষের নূর। সেই নূর অন্ধকারের মধ্যে জ্বলছে কিন্তু অন্ধকার নূরকে জয় করতে পারে নি।
ইউহোন্না ১:১৪ সেই কালামই মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন। পিতার একমাত্র পুত্র হিসাবে তাঁর যে মহিমা সেই মহিমা আমরা দেখেছি। তিনি রহমত ও সত্যে পূর্ণ।
ইঞ্জিল শরিফে ঈসা মসীহ্কে আল্লাহ্র কালাম হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমরা স্বীকার করি যে ঈসাই মসীহ্। তিনি আল্লাহ্র কালাম (কালিমাতুহু)। কুরআনের ৪র্থ সুরা নিসার ১৭১ আয়াতে এবং ইঞ্জিল শরিফের ইউহোন্না কিতাবের ১:১ আয়াতে এই বিষয়ে বলা হয়েছে।
ইঞ্জিল শরিফের ইউহোন্না ১:১ আয়াতে বলা হয়েছে যে, শুরুতে কালাম ছিলেন এবং কালাম আল্লাহ্র সঙ্গে ছিলেন এবং কালামই ছিলেন আল্লাহ্। ইঞ্জিল শরিফের ইউহোন্না ১:১৪ আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, সেই কালামই মানুষরূপে আমাদের সঙ্গে বাস করতে এলেন। এ কথার অর্থ হলো এই যে, আল্লাহ্র কালাম দুনিয়ায় এলেন এবং মানুষের সাথে বাস করলেন এবং এই কালামই হলেন ঈসা মসীহ্।
নাজাতের উপায় কি?
সৃষ্টি থেকে আমরা সবাই গুনাহ্গার। আল্লাহ্ এই গুনাহ্ থেকে উদ্ধারের জন্য একজন গুনাহ্ হীন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে ছিলেন আর তিঁনি ছিলেন ঈসা মসীহ্। ঈসা মসীহ গুনাহ্গার মানুষকে খুঁজতে এ পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং তাঁর মধ্যে দিয়েই গুনাহ্গারের নাজাত বা উদ্ধার পেতে পারে। প্রত্যেকেই আল্লা্হ্র গৌরব বিহীন হয়েছে! আর প্রত্যেকেই আল্লা্হ্র কাছ থেকে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ঈসা মসীহ আল্লা্হ্র পূর্ব- ব্যবস্থা অনুসারে এসে আমার আপনার গুনাহে্র শাস্তি বহন করেছেন। তাঁর উপরে ঈমান আনলে, তাঁকে গ্রহন করলে আর গুনাহে্র শাস্তি থাকে না। কেননা ঈসা তাঁর রক্ত দিয়ে গুনাহের মূল্য পরিশোধ করেছেন। ঈসা তাঁর রক্ত দিয়ে আমার ও আপনার গুনাহে্র মূল্য দিয়েছেন। এই জন্য আমাদের বিশ্বাসই যথেষ্ট। নাজাতের জন্য আমাদের আর কিছুই করার নেই। শুধু ঈমানের মাধ্যমে আমরা গুনাহের ক্ষমা নিয়ে বিজয়ী জীবন-যাপন করতে পারি। তাই আমাদের কাজ তাঁর সলীবে কুরবানির মৃত্যুকে বিশ্বাস করা। কেননা ঈসার কুরবানি আমাদের নাজাতের ভিত্তি। ইন্জিল শরীফ ইউহোন্না ৩:১৬ আয়াতে লেখা আছে, “আল্লাহ্ মানুষকে এত মহব্বত করলেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপর ঈমান আনে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।”
ঈসা মসীহ্ কে?
ইউহোন্না ৬:৬৭ আয়াতে লেখা আছে যে, তখন ঈসা মসীহ্ তাঁর সাহাবিদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরাও কি চলে যাবে? ইউহোন্না ৬:৬৮-৬৯ আয়াতে বলা হয়েছে যে, তখন সাহাবি পিতর জবাব দিলেন, প্রভু, আমরা কার কাছে যাব? আপনার নিকট অনন্ত জীবনের কালাম আছে এবং আমরা আপনাতে ঈমান এনেছি। আমরা জেনেছি যে আপনি আল্লাহ্র সেই পবিত্রজন।
ক্রূশের উপরে ঈসা মসীহের মৃত্যু
তখন সৈন্যেরা ঈসাকে নিয়ে গেল। ঈসা নিজের ক্রূশ নিজে বয়ে নিয়ে মাথার খুলির স্থান নামে একটা জায়গায় গেলেন। সেই জায়গার হিব্রু নাম ছিল গল্গথা। সেখানে তারা ঈসাকে ক্রূশে দিল- ঈসাকে মাঝখানে আর তাঁর দু’পাশে অন্য দু’জনকে দিল। (ইউহোন্না ১৯:১-৪২)
মসীহ্কে দাফন করা হলো
ইউসুফ নামক একজন ধনী ব্যক্তি ক্রুশ হতে ঈসা মসীহ্র দেহ চেয়ে নিলেন। তিনি মৃতদেহকে পাহাড়ের মধ্যে তাঁর নিজের জন্য তৈরি একটি নতুন কবরে দাফন করলেন। মৃতদেহ কবরে রেখে তিনি কবরের উপর একটি বিরাট পাথর চাপা দিয়ে রাখলেন। কয়েক জন নারী দেখেছিল কোথায় ঈসা মসীহ্কে কবর দেয়া হয়েছে। তখনকার আমলে মৃতদেহ যাতে পচে না যায় তার জন্য এর উপরে নানারকম মশলা দিয়ে তৈরি সুগন্ধি জিনিস দেয়া হতো। ঐ নারীগণ ঐ সুগন্ধি জিনিস তৈরি করার জন্য বাড়িতে চলে গেল।
ইহুদি ইমামগণ কবর পাহারা দেয়ার জন্য সৈন্য মোতায়েন করল। কিন্তু মাত্র তিনদিন পরেই ঈসা মসীহ্ জীবিত হয়ে উঠলেন। তিনি আজ পর্যন্ত জীবিত আছেন।
ঈসা মসীহ্ মৃত্যু হতে জীবিত হয়ে উঠলেন
সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার ঈসা মসীহ্ মৃত্যু হতে জীবিত হয়ে উঠেছিলেন। সে সময় ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই সময় ঈসা মসীহের কবরের কাছে আল্লাহ্র নিকট হতে একজন ফেরেশ্তা এসে উপস্থিত হলেন। ফেরেশ্তা ছিলেন সূর্যের আলোর মতো ঝকঝকে। কবরের পাহারাদার সৈন্যরা এ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কবরে ঢাকা বিরাট পাথরখানা গড়িয়ে পড়ে গেল।
মথি কিতাবের ২৮:২-৪ আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে যে, তখন মসীহ্ আবার জীবনে ফিরে আসলেন এবং কবর থেকে হেঁটে বের হয়ে এলেন। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ঈসা মসীহ্ মৃত্যুর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিলেন।
মসীহ্ নাজাতদাতা
মসীহ্ নিজেই “ইঞ্জিল অর্থাৎ সুসংবাদ” এই জন্য তিনি নাজাতদাতা।
স্মরণ করুন: তৌরাতের পয়দায়েশ কিতাবের ৩:১৫ আয়াতে আছে যে, যখন হজরত আদম ও বিবি হাওয়া বেহেশ্তের বাগানে আল্লাহ্র হুকুম অমান্য করেছিলেন তখন আল্লাহ্ ওয়াদা করেছিলেন যে, একজন নারীর পুত্র শয়তানের মাথা গুঁড়া করে দেবে। যদিও শয়তান তাঁকেও আঘাত করবে।
আল্লাহ্ যে পুত্রের ওয়াদা করেছিলেন তিনিই মসীহ্, তিনি কুমারী মরিয়মের গর্ভে জন্মেছিলেন। শয়তানের গোলাম দুষ্ট লোকেরা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিল। কিন্তু মসীহ্ মৃত্যু হতে উঠে দুষ্ট লোকের শয়তানি এবং মৃত্যুকে পরাজিত করেছেন। মসীহের উপর ঈমান এনে আমরাও দুষ্ট লোকের শয়তানি এবং মৃত্যু হতে মুক্তি পাই।
মসীহ্ই প্রভু
যদি কেউ ঈসা মসীহ্কে প্রভু ও নাজাতদাতা বলে স্বীকার করে কিছুকাল পরে মারা যায়, তবে সে একদিন মৃত্যু হতে উঠে চিরকাল আল্লাহ্র সাথে বাস করবে। ইঞ্জিল শরিফ ইউহোন্না ১১:২৫ আয়াতে লেখা আছে যে, ঈসা মসীহ্ বললেন, আমি পুনরুত্থান (যে মৃত্যু হতে উঠেছে) এবং জীবন; যে কেউ আমার উপরে ঈমান আনে, সে মারা গেলেও জীবিত থাকবে। আবার ইঞ্জিল শরিফ ১ করিন্থীয় ১৫:৫২ আয়াতে বলা হয়েছে, মৃতদিগকে কবর হতে তোলা হবে … এবং আমরাও রূপান্তরিত হবো।
বলা হয়েছে যে, যারা ঈসা মসীহ্কে প্রভু এবং নাজাতদাতা বলে স্বীকার করে ঈমান এনেছে তারা যখন মৃত্যু হতে উঠবে তখন তাদের শরীর ইহ জগতের চেয়ে আরও সুন্দর হবে। তারা পিতা আল্লাহ্র সাথে চিরকাল থাকবে।
আপনি চিহ্নিত করতে নিচের Complete বাটনটি ক্নিক করুন।
